বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা ও আমার অভিজ্ঞতা - ২


কর্তা ও কর্মের ব্যবহার

একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম যে বাংলায় আমরা যেসব শব্দকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি সেগুলো বিষ্ণুপ্রিয়াতে উপস্থিত আছে। যেমন, ধরা যাক মোর অর্থাৎ আমার, তার চেয়েও মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের  ব্যবহৃত একবচন গুলো তাদের ক্ষেত্রে বহুবচন 

সর্বনাম

ইংরেজি সহ আরও বেশ কিছু ভাষাতে ব্যক্তিভেদে আলাদা সর্বনাম ব্যবহার হয়। বিষ্ণুপ্রিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়। 

উত্তম পুরুষ
উত্তম পুরুষের সর্বনাম একবচনে সর্বদাই "মি" হয় অর্থাৎ আমি। আর বহুবচনে "আমি" অর্থাৎ আমরা। লক্ষ্য করুন আমাদের "আমরা" কিন্তু বিষ্ণুপ্রিয়ার "আমি"। এতো গেল কর্তৃপদ। কর্মপদে " মি" হবে "মোর" আর "আমি" হবে "আমার"। (: গণ্ডগোল করবেন না।

মধ্যম পুরুষ বা 2nd person
বাংলায় দ্বিতীয় পক্ষের জন্য তুই, তুমি আর আপনি মোট তিনটি সর্বনাম আছে। বিষ্ণুপ্রিয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি হবে দুই। একবচন কর্তৃপদে তি (তুমি) আর কর্মপদে তোর (তোমার)। এদের বহুবচন যথাক্রমে তুমি (তোমরা) ও তোমার (তোমাদের)।

তৃতীয় পক্ষ বা নামপুরুষ
তথাকথিত মতে বাংলার অনুভাষা হওয়া সত্ত্বেও বিষ্ণুপ্রিয়াতে কিন্তু তৃতীয় পক্ষের নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা সর্বনামের প্রচলন রয়েছে। নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে তিনি ব্যবহার করতে আমাদের অত ভাবাভাবির প্রয়োজন না হলেও বিষ্ণুপ্রিয়াতে ভাবতে হবে। তৃতীয় ব্যক্তি পুরুষ হলে একবচন কর্তৃপদে তা (তিনি) আর নারী হলে তেই (তিনি) বলে সম্বোধন করতে হবে। কর্মপদে হবে  যথাক্রমে তার ও তেইর। বহুবচন অবশ্য লিঙ্গভেদ নেই। সেক্ষেত্রে কর্তৃপদে তাংগি/তানু (তারা) আর কর্মপদে তাংগর/তানুর (তাদের) আর বলে চালিয়ে নিতে পারেন। 

ইতরবাচক শব্দের ক্ষেত্রে একবচন সর্বনাম হবে ওহান বা উহান (এটা/এটি)। ব্যক্তিভেদে উ আর ও এর ব্যবধান হয়ে থাকে কিছুটা। 
  • যাওয়া- যানা
  • হাঁটা- আটানি
  • দৌঁড় - দাবড়ানি
  • বসা - বহানি
  • হওয়া - অনা
  • করা - করানি

  1. বারো - আর/এবং/ও
  2. লিচেত - ধর্ম
  3. ঠার - ভাষা
  4. আরাকউ - আরওকিছু
  5. মানু - মানুষ
  6. মানুলেহা - গণনা
  7. লেহা - গণনা
  8. ইলয়া
  9. ইলাতাই
  10. গ - জন [৫০গ - ৫০জন]
  11. অতার - এর/এদের
  12. মা - মাঝে/মধ্যে
  13. মুনি - পুরুষ
  14. বেয়াপা/জেলা - নারী/মহিলা
  15. এগত
  16. বসর
  17. গজ
  18. আরাকউ 
  19. পাসিতা

  20. মুনি

মারি -সাল

১৯২০ সালকে বিষ্ণুপ্রিয়ায় বলা যাবে ১৯২০ মারি। একই প্যাটার্নে "সালের" = "মারির" হবে, যেহেতু আগেই বলেছি বিষ্ণুপ্রিয়া -এর বিভক্তি নেই। পুরোটাই -র বিভক্তি।  নিচের বাক্যটি দেখা যাক -
বাংলাদেশর ২০০১ মারির মানুলেহা অনুসারে রাজবাড়ী জিলার জনসংখ্যা ইলাতাই ৯৫১৯০৬ গ।
এই বাক্যের সরল বাংলা করলে দাড়াবে বাংলাদেশের ২০০১ সালের জনশুমারি অনুসারে রাজবাড়ী জেলার জনসংখ্যা হল ৯৫১৯০৬ জন। এই বাক্যে লক্ষ্য করার মত বিষয় হল  অর্থাৎ বাংলায় জন, মানুলেহা বা জনশুমারি, ইলাতাই বা 'হলো'।

হারি - প্রতি 

বাংলায় আমরা হর বলে একটা শব্দ ব্যবহার করি খুবই কালেভদ্রে। যেখানে হররোজ, অর্থাৎ প্রতিদিন। 

এহান

'এখান' এর সমতুল্য। সম্ভবত এটি বাংলা থেকেই পেয়েছে ভাষা। এহানত মানে এখানে। লক্ষ্যণীয় যে বাংলা যেটি -এ, -য়, -তে বিভক্তি বিষ্ণুপ্রিয়াতে সেটি -ত বিভক্তি। 

বারো

এটি একটি সংযোজক অব্যয়। আমাদের এবং, ও, আর এর মত। কাজও একই। 

আস্তা

আস্ত বা পুরোটা অর্থে এর প্রয়োগ হয়। মৈমনসিংহের ছেলে হিসেবে এটা আমার বেশ পরিচিত শব্দ। 

  1. লয়াগ
  2. লয়াহান - আয়তন
  3. লয়াগি - অঞ্চল/এলাকা
  4. ঘনহান- ঘনত্ব
  5. নাঙ - নাম
  6. চিৎ - চিত্ত
  7. ঠইগ-প্রাণ
  8. এগীর -এগুলোর
  9. নাংহান - নাম
  10. থাইতারা
  11. অহানাত্ত
  12. বপ
  13. য়্যাম
  14. এগর
  15. আগ
  16. খা-হমবুক - ?
  17. আহান
  18. খা-মুঙ - দক্ষিণ দিক/পাশ
  19. ঔয়াঙ
  20. মুঙ
  21. খায়েদ
  22. তিলয়া
  23. এহান - এটি
    1. বাংলাদেশর পুরা নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, এহান এশিয়া মহাদেশ বারো খা-হমবুক এশিয়া উপমহাদেশর দেশ আহান
    2. বাংলাদেশের পুরো নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, এটি এশিয়া মহাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের [একটি] দেশ।