বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কি ভাষা না উপভাষা?


বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী স্বতন্ত্র ভাষা নাকি বাংলার উপভাষা সেটা নিয়ে ভাষার জগতে ঐকমত্য কিন্তু হয় নি এখনও। তবে হোক বা না হোক বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষায় উইকিপিডিয়ার মত বিশ্বকোষ তৈরি হয়েছে সেটি এই ভাষার জন্য প্রাপ্তি বটে।

বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষার উৎপত্তি হয়েছে বাংলা থেকে এমনটা মনে করেন অনেকেই। যদি তা সত্যি হয় তবে বিষ্ণুপ্রিয়াকে উপভাষা বলা ঠিক সাজে না। বাংলা থেকে সৃষ্ট সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভাষা এটি। অবশ্য অসমীয়ার উপভাষা বলেও মাঝেমধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়াকে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে বিষ্ণুরা নিজেরা বলেন ভিন্ন কথা, তাদের মতে তাদের ভাষা বাংলা ও অসমীয়ার যুগপৎ ভাষা, এদের উপভাষা নয়। বাংলা উৎস থেকে উৎপন্ন হওয়ায় বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষার সাথে বাংলা ভাষার অনেক মিল আছে, একই কারণে অসমীয়া ও উড়িয়ার সাথেও এর মিল পাওয়া যায়। 

বিষ্ণুপ্রিয়ার সাথে উপরােক্ত ভাষার উল্লেখযােগ্য কিছু পার্থক্য আছে। যেমন, 

  1. লিঙ্গভেদে ক্রিয়ার আলাদা আলাদা রূপ প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় বাংলায় থাকলেও আধুনিক বাংলায় নেই। বিষ্ণুপ্রিয়াতে বর্তমানেও লিঙ্গভেদে ক্রিয়ার রূপ আলাদা হয়ে থাকে। এই দিক থেকে কিন্তু বিষ্ণুপ্রিয়া মধ্যযুগীয় বাংলা থেকে সৃ্ষ্ট বলা যেতে পারে।
  2. বচনভেদে ক্রিয়ার ভেদ অসমীয়া, বাংলা ও উড়িয়া ভাষায় নেই, তবে বিষ্ণুপ্রিয়াতে প্রত্যেক ক্রিয়ার রূপ বচনভেদে পৃথক পৃথক।
  3. বিষ্ণুপ্রিয়ার শব্দ-বিভক্তিতে নিজস্ব কিছু রূপ আছে । যেমন,
    • তৃতীয়া—লাে
    • চতুর্থী এবং সপ্তমী — রাঙ
    • পঞ্চমী — রাওতে
  4. বিষ্ণুপ্রিয়ার ক্রিয়া -বিভক্তিতে নিজস্ব উল্লেখযােগ্য কতগুলো রূপ আছে। এর মাঝে সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি। যেমন: করতৌ, করতেই, করতাই ইত্যাদি।
  5. বিষ্ণুপ্রিয়ার সর্বনামেও নিজস্ব ধরণ আছে । যেমন: তি, তা ইত্যাদি।
  6. বিষ্ণুপ্রিয়ার শব্দভাণ্ডারে প্রায় ৮,০০০ টি শব্দ আছে, যার কোনটি অসমীয়া, বাংলা বা উড়িয়াতে নেই ।
  7. কয়েক শতক আগেও বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষার ভিতরেই ‘রাজার গাঙ ও ‘মাদই গাঙ’ বলে দুটি উপভাষা প্রচলিত ছিল। 

সুতরাং, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী একটি স্বতন্ত্র ভাষা, অন্য কোন ভাষার উপভাষা নয়।